সময়: আগস্ট থেকে অক্টোবর- এই তিন মাস ভুটানে ঘোরার উৎকৃষ্ট সময়। শীতকাল বা বর্ষাকাল ভুটান বেড়ানোর খুব একটা উপযুক্ত সময় নয়।
মুদ্রা: ভুটানে ইন্ডিয়ান রুপি আর গুলট্রাম দুটোই চলে। রুপি আর গুলট্রামের মান সমান। বিমানবন্দর অথবা বর্ডার থেকে ডলার ভাঙাতে পারবেন। তবে কিছু দোকানেও ডলার ভাঙানো যায়, ট্যাক্সিওয়ালাকে বললেই দেখিয়ে দেবে। এক্ষেত্রে দাম কিছু বেশিই পাবেন। ভাঙিয়ে রুপি নিয়ে গেলেও কোনো সমস্যা নেই।
ভিসা: সার্কভুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্য ভুটানে যেতে ভিসার দরকার হয় না। কেবল টিকিট কাটুন আর চলে যান। দ্রুক এয়ারওয়েজ ভুটানের একমাত্র বিমান সংস্থা; বাংলাদেশ থেকে কেবল দ্রুক এয়ারওয়েজেই ওখানে যাওয়া যায়। টিকিটের মূল্য ২২ হাজার টাকার মতো।
সড়ক পথে যেতে চাইলে প্রথমে ভারতীয় ট্রানজিট ভিসা নিতে হবে। কারণ বাংলাদেশ থেকে আপনাকে ভারত হয়েই ভুটানে প্রবেশ করতে হবে। টিকিটের মূল্য ৩-৪ হাজার টাকা। ভারতীয় ভিসা পাওয়ার ব্যাপারটা একটু ঝক্কির। তবে এটুকু কষ্ট ভুটানের সৌন্দর্যের তুলনায় কিছুই না। ঢাকা থেকে বাস লালমনিরহাট হয়ে শিলিগুড়ির উদ্দেশে ছেড়ে যায়। শিলিগুড়ি পৌঁছানোর পর সেখান থেকে অন্য আর একটি বাসে জয়গাঁ সীমান্ত এবং সেখানে সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রবেশ করবেন ভুটানের ফুন্টসলিং।
এরপর আপনার যাত্রা থিম্পু অথবা পারোর দিকে। বিমানে বা সড়কপথে যেভাবেই যান, ওরা পাসপোর্টে এন্ট্রি পারমিশনের সিল দিয়ে দেবে, তবে এই পারমিশন শুধুমাত্র থিম্পু, পারো আর ফুন্টসলিংয়ের জন্য। অন্য কোথাও যেতে বা থাকতে হলে থিম্পু থেকে পারমিশন নিতে হবে।
যাতায়াত: ভুটানের বেশিরভাগ গাড়িই ছোট; ৮-৯ জন বসা যায় এমন গাড়ি বা মাইক্রোবাস অবশ্য ভাড়া পাওয়া যায়। চারজনের দল হলে একটা গাড়ি ভাড়া করে নেবেন, খরচ কম লাগবে। শেয়ারের ট্যাক্সিতেও ঘুরতে পারেন কিছু জায়গাতে। ভুটানের পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করতে পারেন; কিন্তু এগুলো নির্দিষ্ট কিছু টাইমে ছাড়ে, তাই বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে খুব একটা সুবিধা হবে না। এছাড়া এগুলো সব ট্যুরিস্ট স্পটে যায়ও না। গাড়ি ভাড়া করলে ড্রাইভারের থাকা-খাওয়ার খরচ সে নিজেই বহন করবে। আসলে ভুটানের প্রায় সব হোটেলেই ড্রাইভারদের থাকা-খাওয়া ফ্রি।
ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য জায়গায় বেশ কিছু ট্যুর অপারেটর রয়েছে যারা ভুটানে ট্যুর পরিচালনা করে। ঈদ উপলক্ষে এরা আকর্ষণীয় অফার দেয়। চার থেকে পাঁচ দিন ভুটান ভ্রমণের প্যাকেজের মূল্য বিমানে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা, সড়কপথে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। আমি অবশ্য পরামর্শ দেব বিমানে ও নিজেদের মতো করে যেতে; এতে বেশি জায়গায় নিজের মতো করে ঘুরতে পারবেন।
হোটেল: হোটেল আগে থেকে বুকিং করে রাখা ভালো। তবে পিক সিজন না হলে থিম্পু বা পারো পৌঁছেও যে কেউ হোটেল ঠিক করতে পারেন। ভুটানে মোটামুটি ভালো মানের হোটেলগুলো ই-মেইলে রুম বুক করে। এদের ভাড়া ২০০০ থেকে ৩০০০ রুপির মধ্যে। অফ সিজনে সব হোটেলই অনেক ছাড় দেয়।
কেনাকাটা: ভুটানে সবকিছুরই দাম অবিশ্বাস্য। ওদের নিজেদের পণ্য নেই বললেই চলে। সব ভারতীয়, চীনা, তিব্বতি বা নেপালি। তবু নতুন দেশে গিয়ে কিছু কিনবেন না তা তো আর হয় না। তাই কিনতে পারেন হাতে বোনা কাপড়, কাঠের জিনিসপত্র, পাথরের গয়না অথবা মুখোশ। থিম্পুতে একটা রাস্তায় হস্তশিল্পের দোকান বসে। স্ট্যাম্প সংগ্রহের শখ থাকলে সেগুলোও কিনে নিতে পারেন। সস্তায় কিছু জিনিস কিনতে চাইলে স্থানীয় কারো কাছ থেকে ঠিকানা জেনে নিতে পারেন অথবা টাইগার’স নেস্ট যাওয়ার পথে কিছু জিনিস পাওয়া যায়, তবে মান খুব একটা ভালো হবে না।
সতর্কতা: ভুটানের মানুষ ধর্ম, সংস্কৃতি এবং আইনের ব্যাপারে খুব সংবেদনশীল। অনেক কিছু দেখে আপনার কালচারাল শক লাগতেই পারে; তবু ওদের মনে আঘাত লাগতে পারে এমন কিছু এড়িয়ে চলুন। ভুটানের রাস্তাঘাটে অনেক বেওয়ারিশ কুকুরের দেখা মিলবে। কারণ ওরা প্রাণী হত্যা করে না। তবে কুকুরের কাজ কুকুর ঠিকই করে। এক হোটেলের কর্মচারী মাত্র পাঁচবার কামড় খেয়েছে! সুতরাং ‘কুকুর হইতে সাবধান’।
তো এবার মাথায় সাদা ক্যাপ পরে, কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে নেমে পড়ুন রাজপথে! হয়ে যাক এবারই!! শুভযাত্রা!!!



কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন